ইরানের তেল বাণিজ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগে ভারতের চার নাগরিক ও তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত বিমান সংস্থাগুলোকে সেবা দেওয়ার অভিযোগে তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেজারি বিভাগ এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। ইরানের তেল বিক্রি থেকে আয় সীমিত করে দেশটির অর্থনৈতিক ও সামরিক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বাধাগ্রস্ত করাই এ পদক্ষেপের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন ভারতের সুনীল কুমার শর্মা, তাঁর স্ত্রী জাসপ্রীত প্রীতি শাহিদ এবং তাঁদের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অশ্বানি কুমার ধিমান ও ইশবিন্দর সিং।
শর্মা ও শাহিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ভারতীয় প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ভুয়া জাহাজ নিবন্ধন, পতাকা ও সামুদ্রিক সনদ ব্যবহার করে ইরানের তেল পরিবহনে নিয়োজিত নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজগুলোকে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়াতে সহায়তা করেছে। এসব জাহাজের মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীর হয়ে পরিচালিত জাহাজও ছিল বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভারতের চণ্ডীগড় থেকে সুনীল কুমার শর্মা ও তাঁর স্ত্রী বিভিন্ন দেশের নামে জাহাজ নিবন্ধন ও সামুদ্রিক সনদ দেওয়ার ভুয়া কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
গায়ানা, এসওয়াতিনি ও লাওসসহ বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করে তাঁরা একাধিক ওয়েবসাইট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
সংস্থাটির ভাষ্য, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ইরানের তেল পরিবহনকারী নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলার সুযোগ পেয়েছে।
ইরানের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত বিমান চলাচল খাতকে সহায়তার অভিযোগে তুরস্কভিত্তিক ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি ইরান এয়ার ট্যুর, সাহা এয়ারলাইনস, সেপেহরান এয়ারলাইনস, ভারেশ এয়ারলাইনস, তাবান এয়ারলাইনস ও আতা এয়ারলাইনসসহ কয়েকটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ইরানি বিমান সংস্থাকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও অন্যান্য সেবা দিয়ে আসছিল।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরান সরকারকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। স্থল, সমুদ্র কিংবা আকাশপথে যেকোনোভাবে তেহরানকে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় সাফল্যের পর নতুন এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধ এবং এর প্রভাবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে রাজনৈতিক চাপের মুখেও ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এ পদক্ষেপ চলমান সংঘাত প্রশমনের প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
